super admin
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২:০৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মায়ের মরদেহের পাশে কোরআন তেলাওয়াত তারেক রহমানের

অনলাইন ডেস্ক:বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মরদেহ তার বড় ছেলে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসভবনে রাখা হয়েছে। সেখানে মরদেদেহর পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করছেন তারেক রহমান।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল পৌঁনে ৯টার দিকে তার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে রওনা দেয়। সকাল সোয়া ৯টার দিকে গুলশান ২ নম্বরের গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িটিতে পৌঁছায় বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ।

তারেক রহমানের বাসভবনে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহে তার আত্মীয়-স্বজনরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। এ ছাড়া দলের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতাও বাসাটিতে প্রবেশ করেছেন।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ওই বাড়িতে কিছুক্ষণ রাখার পর বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নিয়ে যাওয়া হবে। দুপুর ২টায় সেখান তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে জিয়া উদ্যানে তার স্বামী, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

বেগম খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালটির আইসিইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং তিনি সংকটময় মুহূর্ত পার করছিলেন বলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন।

বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদার। শৈশবে তিনি দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তিনি ফার্স্ট লেডি হিসেবে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।

১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবরণের পর দলের সংকটময় মুহূর্তে তিনি রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৮৩ সালে তিনি দলের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

আশির দশকে তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। আপসহীন সংগ্রামের কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। এই দীর্ঘ আন্দোলনে তিনি সাত দলীয় জোট গঠন করেন এবং স্বৈরাচারের পতন না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে তাকে ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সাতবার আটক ও গৃহবন্দী করা হয়েছিল।

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তার সময়েই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শিক্ষা খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন; যার মধ্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং উপবৃত্তি কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া তিনি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ থেকে ৩০ বছরে উন্নীত করেন।

১৯৯৬ সালের জুন মাসের নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হলেও তিনি ১১৬টি আসন নিয়ে সংসদে বৃহত্তম বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি চারদলীয় জোট গঠন করেন এবং ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় ২৯ নম্বরে স্থান দেয়।

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে কোনো আসনেই পরাজিত না হওয়ার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে যে কয়টি আসনে দাঁড়িয়েছেন, তার সবকটিতেই জয়লাভ করেছেন। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট সিনেট গণতন্ত্রের প্রতি তার অবদানের জন্য তাঁকে ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ উপাধিতে ভূষিত করে।

২০১৮ সালে একটি বিতর্কিত মামলার রায়ে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে একে একে সব মামলায় খালাস পান বিএনপি চেয়ারপারসন।

মন্তব্য করুন

[wpdevart_facebook_comment curent_url="https://dailyjanaokantha.com/national/1575/" order_type="social" title_text="" title_text_color="#000000" title_text_font_size="22" title_text_font_famely="monospace" title_text_position="left" width="100%" bg_color="#d4d4d4" animation_effect="random" count_of_comments="3" ]
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মুন্সিগঞ্জে ওএমএস চাল-আটা নিয়ে অনিয়ম, ডিলার,আটা মিলার ও খাদ্য কর্তৃপক্ষের যোগসাজোসে কালোবাজারি সিন্ডিকেট, হেনস্তার শিকার অনুসন্ধানী টিম 

১

টেকসই উন্নয়নে দক্ষ ব্যবস্থাপক অপরিহার্য: অতিথি গ্রুপের ম্যানেজার কর্মশালায় লায়ন সাইফুল ইসলাম সোহেল

২

পাবনায় ওএমএসের চাল-আটা কালোবাজারির অভিযোগে নারী ডিলার আটক  

৩

টাকার বিনিময়ে বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ খাদ্য অধিদপ্তরে: কুষ্টিয়া ফেলে সিরাজগঞ্জে যোগদানের নেপথ্যে কী?

৪

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবে যোগ দিলেন নন্দীগ্রামের কৃতি সন্তান ফারুক আহমেদ

৫

পেশাজীবীদের নিরাপত্তায় ন্যায্য পে-স্কেল, শক্তিশালী অর্থনীতি ও বীমা কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের

৬

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহীতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

৭

তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে: ১৭ বছরের জেল-জুলুম পেরিয়ে লালবাগের কৃতি সন্তান আলমগীর কবির সেলিমের রাজনৈতিক পথচলা

৮

ঢাকা রেশনিং এর প্রধান নিয়ন্ত্রকের রুমে অভিযোগকারীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম

৯

বদলির আদেশের পর ব্যাকডেটে ডিলার নিয়োগ! ঢাকা রেশনিংয়ের সাবেক প্রধান নিয়ন্ত্রক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ

১০

কুমিল্লায় ৫ মাসে এইডসে ৭ মৃত্যু, ঝুঁকিতে সমকামী ও যৌনকর্মীরা

১১

রাষ্ট্রের জন্য নির্ঘুম জীবন: দায়িত্বের বেড়াজালে হারিয়ে যাচ্ছে সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যদের স্বপ্ন

১২

জাকির ওরফে ‘হোয়াইট জাকির’ কর্তৃক সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি, পল্টন থানায় জিডি

১৩

ঢাকা রেশনিং দপ্তরের ওএমএস খাতের চাল-আটা কালোবাজারির উদ্দেশ্যে মজুত, ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ

১৪

নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে কক্সবাজারে ওএমএসের চাল-আটা কালোবাজারে, নেপথ্যে ডিলার ও কর্মকর্তার সিন্ডিকেট!

১৫

চাঁদপুরে প্রবাসী পরিবার প্রতারণার শিকার দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ

১৬

শাপলা চত্বরের ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তির দাবি ছাত্র জমিয়তের –

১৭

তিস্তা ব্রহ্মপুত্র ধরলার পানি বৃদ্ধি

১৮

মানবপাচার ও অপহরণ চক্রের- ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

১৯

বালু নদীর উপর কেওঢালা সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

২০