নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানায় দায়ের করা এক লিখিত অভিযোগে প্রবাসী শ্রমিক পাঠানোর নামে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ভুক্তভোগী মিতু বেগম (৪০) তার স্বামী মোঃ জহির কাজীর পক্ষে থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর এ অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে মোঃ জহির কাজীকে সৌদি আরবে একটি টিস্যু ফ্যাক্টরিতে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি দালাল চক্র তার পরিবারের কাছ থেকে মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করে। পরে তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হলেও কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিতে নিয়োগ না দিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে অভিযুক্তরা আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে জহির কাজীকে কর্মস্থল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়। ভুক্তভোগী পরিবার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযুক্ত হিসেবে তসলিম উদ্দিন (৬০), আওয়াল পাটোয়ারী (৬০), নাহিদ (৩৫) ও তাজু পাটোয়ারী (৬৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা ভুয়া এজেন্সির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এমন প্রতারণা চালিয়ে আসছে।
এছাড়া অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা একটি ভুয়া ভিজিটিং কার্ড ব্যবহার করে, যেখানে কোনো বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির নাম নেই। একটি সন্দেহজনক লাইসেন্স নম্বর “০৯৬” ব্যবহার করে নিজেদের বৈধ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে এবং পরিচালক হিসেবে মোঃ মোবারক নাম ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, তারা জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে বিদেশে পাঠানোর খরচ জোগাড় করেছে। বর্তমানে তারা চরম আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
পরিবারটি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে—
জহির কাজীকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক,
অথবা তাকে প্রতিশ্রুত চাকরি নিশ্চিত করা হোক,
অন্যথায় প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত প্রদান করা হোক।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে এ ধরনের প্রতারণা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন