নিজস্ব প্রতিবেদক : তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতিতে স্থান করে নেওয়া এক লড়াকু নেতার নাম আলমগীর কবির সেলিম। ঢাকার লালবাগের এই কৃতি সন্তান দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, কারা নির্যাতন এবং অসংখ্য জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। তবে কোনো প্রতিকূলতাই তাকে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে তিনি আজ তৃণমূল থেকে কেন্দ্রের এক অবিচল রাজনৈতিক ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।
তৃণমূল থেকে উত্থান : আলমগীর কবির সেলিমের রাজনীতির হাতেখড়ি এই লালবাগের মাটি থেকেই। স্থানীয় সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে তিনি দ্রুতই হয়ে ওঠেন গণমানুষের নেতা। পাড়া-মহল্লার ছোটখাটো সমস্যা সমাধান থেকে শুরু করে যেকোনো সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটে তাকে সবসময় সামনের সারিতে পাওয়া গেছে। তার এই সততা, কর্মনিষ্ঠা এবং মাঠপর্যায়ের জনপ্রিয়তাই তাকে ক্রমান্বয়ে কেন্দ্রের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসে।
১৭ বছরের জেল-জুলুম ও নির্যাতন : সেলিমের রাজনৈতিক জীবন কোনো মসৃণ পথ ছিল না, বরং এটি ছিল কাঁটা বিছানো। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তাকে রাজনৈতিকভাবে দমন করার নানা চেষ্টা চালানো হয়েছে।
মিথ্যা মামলা: রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় অসংখ্য রাজনৈতিক মামলা।
কারা নির্যাতন: জীবনের এক বড় অংশ তাকে কাটাতে হয়েছে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। সেখানে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।
পারিবারিক ত্যাগ: দীর্ঘ সময় জেলে থাকায় তার পরিবারকে চরম সামাজিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
অবিনাশী আদর্শ ও অবিচল নেতৃত্ব : শত নির্যাতন ও বারবার কারাবরণের পরও আলমগীর কবির সেলিম কখনো নিজের রাজনৈতিক আদর্শের সাথে আপস করেননি। প্রতিটি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আরও দ্বিগুণ উৎসাহে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন। তার এই আপসহীন মনোভাব লালবাগ ছাড়িয়ে পুরো দেশের তরুণ রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, জনগণের ভালোবাসা থাকলে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক দমন-পীড়ন দিয়ে কোনো নেতাকে মুছে ফেলা যায় না।
বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ ভাবনা : বর্তমানে তৃণমূলের গণ্ডি পেরিয়ে কেন্দ্রে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেছেন আলমগীর কবির সেলিম। লালবাগের মানুষ তাকে তাদের অধিকার আদায়ের এক বিশ্বস্ত কণ্ঠস্বর হিসেবে দেখে। সেলিম মনে করেন, রাজনীতি কোনো ভোগের বস্তু নয়, বরং এটি ত্যাগের এবং মানুষের সেবা করার এক মহান মাধ্যম। আগামী দিনেও তিনি লালবাগ তথা দেশের মানুষের কল্যাণে এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।
লালবাগের সাধারণ মানুষের মতে, আলমগীর কবির সেলিম কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি হলেন প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে টিকে থাকা এক জীবন্ত কিংবদন্তি।
মন্তব্য করুন