নিজস্ব প্রতিবেদক : খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগে বিশাল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে এক কর্মকর্তার জোড়া বদলি আদেশের খবর ফাঁস হয়েছে। ঢাকা রেশনিং ডি-৬ এলাকার কর্মকর্তা এফ এম রাহাতুল ইসলামের এই রহস্যজনক বদলি নিয়ে অধিদপ্তর এবং ঢাকা রেশনিংয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী এবং খাদ্য সচিবের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে জোড়া বদলি,
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগ থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয় (স্মারক নং: ১৩.০১.০০০০.০০০.০৩১.১৯.০০১২.২৬/২৫৭)। ওই আদেশে ঢাকা রেশনিং ডি-৬ এর কর্মকর্তা এফ এম রাহাতুল ইসলামকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে বদলি করা হয়।
কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার ও অদৃশ্য ইশারায় তিনি সেই কর্মস্থলে যোগদান করেননি। এর মাত্র দুই সপ্তাহ পর, গত ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে আরেকটি নতুন আদেশ জারি করা হয় (স্মারক নং: ১৩.০১.০০০০.০০০.০৩১.১৯.০০০৯.২৬/৩২৪)। নতুন এই আদেশে তাকে প্রথম শ্রেণীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ—সিরাজগঞ্জ এলএসডি (১ম শ্রেণী) এর সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়।
মোটা অংকের টাকার মিশন ও টেবিল বাণিজ্য,
খাদ্য অধিদপ্তরের একটি বিশেষ সূত্র নিশ্চিত করেছে, ভেড়ামারার মতো সাধারণ উপজেলা ছেড়ে সিরাজগঞ্জের প্রথম শ্রেণীর এলএসডি (লোকাল সাপ্লাই ডিপো) বাগিয়ে নিতে পর্দার আড়ালে বিশাল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাদ্য অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কুষ্টিয়ায় পোস্টিং পছন্দ না হওয়ায় তিনি মোটা অঙ্কের টাকার মিশন নিয়ে নামেন।মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রশাসন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এই নতুন অর্ডারটি করানো হয়েছে।”
অধিদপ্তর ও রেশনিং কার্যালয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া,
একই কর্মকর্তার ওপর পর পর দুটি ভিন্ন বদলি আদেশ এবং ভেড়ামারায় যোগদান না করে সিরাজগঞ্জের লোভনীয় পদ বাগিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সৎ কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এভাবে টাকার বিনিময়ে পোস্টিং বদল হতে থাকলে মাঠ পর্যায়ের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় ধস নামবে।
তদন্তের জোর দাবি,
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ সচেতন মহল এবং খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সৎ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। সরকারের দুর্নীতিবিরোধী “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী এবং খাদ্য সচিব যেন নিজ উদ্যোগে বিষয়টি খতিয়ে দেখেন এবং এই বদলি বাণিজ্যের পেছনের সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেন, এটাই এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন