নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা রেশনিংয়ের সাবেক প্রধান নিয়ন্ত্রক মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বদলির আদেশ জারির পর গোপনে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ব্যাকডেটে (আগের তারিখ দেখিয়ে) ডিলার নিয়োগ দেওয়ার এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র মতে, সম্প্রতি খাদ্য অধিদপ্তর থেকে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ঢাকা রেশনিংয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রক পদ থেকে বদলি করা হয়। বদলির সুনির্দিষ্ট আদেশ আসার পর নিয়মানুযায়ী দাপ্তরিক কোনো নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত বা নতুন নিয়োগ দেওয়ার এখতিয়ার তাঁর ছিল না। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদানের ঠিক পূর্বমুহূর্তে একটি সিন্ডিকেটের সহায়তায় গোপনে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন। এর বিনিময়ে তিনি বেশ কয়েকজন ডিলারের ফাইল পূর্বের তারিখ (ব্যাকডেট) দেখিয়ে অনুমোদন দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা রেশনিংয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, বদলির আদেশ হওয়ার পর দপ্তরের কিছু ফাইলে তড়িঘড়ি করে স্বাক্ষর করেন সাবেক এই প্রধান নিয়ন্ত্রক। মূলত মোটা অঙ্কের উৎকোচ বা ঘুষের বিনিময়ে ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) ও সাধারণ ডিলার নিয়োগের এই জালিয়াতি করা হয়েছে। লটারি বা প্রকৃত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াকরণ ছাড়াই ব্যাকডেটে ফাইল তৈরি করে পছন্দের ব্যক্তিদের ডিলারশিপের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
এই অনিয়মের ফলে প্রকৃত এবং যোগ্য ডিলার প্রার্থীরা যেমন বঞ্চিত হয়েছেন, তেমনি সরকারের সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচির স্বচ্ছতা চরম হুমকিতে পড়েছে। ইতিপূর্বেও উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওএমএস ডিলার নিয়োগ ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে পক্ষপাতিত্ব এবং স্বজনপ্রীতির নানা অভিযোগ উঠেছিল।
এই ব্যাকডেট জালিয়াতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ ডিলার ও সচেতন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ও বঞ্চিত ডিলাররা এই অবৈধ নিয়োগ বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন এবং একই সাথে জাহাঙ্গীর আলমের এই দুর্নীতির বিষয়টি উচ্চতর তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ঢাকা রেশনিংয়ের সাবেক প্রধান নিয়ন্ত্রক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো:আব্দুল কাদের কে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে রিসিভ করেনি । তবে তা খাদ্য মন্ত্রণালয় কে খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল ।
মন্তব্য করুন