নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দালালের মাধ্যমে অন্য দশজনের মতো মেয়ের সুখের দিকে তাকিয়ে সৌদি আরবে পাঠাতে চেয়েছিল পারুল আক্তারের জামাতা মোঃ শামীম মিয়া-কে। পারুল আক্তারের সাথে আলাপকালে জানা যায়, তার মেয়ের ভবিষ্যৎ সুখের দিকে তাকিয়ে তার জামাতা মো. শামীম মিয়াকে সৌদি আরব পাঠানোর জন্য সুদের উপর টাকা নিয়ে সেই দম্পতি দালাল চক্র শেখ আরিফুল ইসলাম এবং তার সহধর্মিনী শারমিন আক্তার-কে তার নিজ ব্যাংক একাউন্টে থেকে ৪ লক্ষ টাকা, এবং তার নিজস্ব মোবাইল বিকাশ একাউন্ট থেকে ৫০ হাজার টাকা সহ মোট ৪ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা শারমিন-কে দেয়া হয়। ঘটনার বিবরনে জানা যায়, পারুল আক্তারের পরিচিত ব্যক্তি জয় নামে সে সৌদি আরবে থাকে, সেই সুবাদে দালাল চক্র শেখ আরিফুল ইসলাম এর সাথে পরিচয় হয়, তখন দালাল আরিফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে পারুল আক্তার-কে প্রস্তাব করেন যে, তার কাছে সৌদি আরবের ভালো ভিসা আছে। তখন দালাল চক্র আরিফুল ইসলাম মাস্টারমাইন্ড প্লান করে তার সহধর্মিনী শারমিন আক্তার-কে পারুলের মোবাইল নম্বর দেয়া হয়। তখন দালাল চক্রের সহধর্মিনী শারমিন আক্তার সুকৌশলে মোবাইলের মাধ্যমে সহজ সরল পারুল আক্তার-কে দালাল চক্রের, কব্জায় অর্থাৎ তাদের নিয়ন্ত্রণে পুরো নিয়ে আসে। এবার সর্বপ্রথম মেডিকেল করার কথা বলে দালাল চক্র আরিফুল ইসলাম ও তার সহধর্মিনী শারমিন আক্তারের বিকাশ মোবাইল নম্বরে (০১৯৩৫৬৪৭৭৮৩) ত্রিশ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। এরপর দালাল চক্র আরিফুল ইসলাম সৌদি থেকে পারুল আক্তার কে ফোন করে বলেন আপনার জামাই শামীম মিয়ার ভিসা বের হবে এজন্য টাকা দিত হবে দুই লাখ। তখন পারুল আক্তার সুদের উপরে ধার করে দুই লাখ টাকা জোগাড় করে পারুল আক্তারের আমুরোড বাজার চুনারুঘাট কৃষি ব্যাংক শাখা যার অ্যাকাউন্ট নাম্বার (৩৯১৮ ০৩১১০৩১৪৪) এই একাউন্ট থেকে দালালচক্রের সহধর্মিনী শারমিন আক্তার, তার ইসলামী ব্যাংক, যার অ্যাকাউন্ট নাম্বার (২০৫০১৩৫০২০৪২৪৪০১১) নয়াপাড়া যশোর ইসলামী ব্যাংক শাখা, এই অ্যাকাউন্ট নাম্বারে গত ২৭-০২-২০২৫ইং দালাল চক্র পারুল আক্তারের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। পরবর্তী দালাল চক্রের পাতানো খেলা দ্বিতীয় মিশন শুরু হয়। এবার দলাল চক্র আরিফুল ইসলাম ফোন করে পারুল আক্তার-কে বলেন, আপনার জামাই’র ভিসা হয়ে গেছে, এখন বাকি ২ লক্ষ টাকা দিলে আমরা ফ্লাইটের তারিখ দিয়ে দিব। কিন্তু দালাল চক্র প্রতারণার জাল না বুঝে সেই সহজ সরল অবলা নারী পারুল আক্তার মেয়ের সুখের দিকে তাকিয়ে ধার কর্য করে সুদের উপরে নিয়ে আরো ২ লক্ষ টাকা জোগাড় করে পারুল আক্তারের একাউন্ট থেকে স্থানান্তর করে দালাল চক্র আরিফুল ইসলাম তার সহধর্মিনী শারমিনের ইসলামী ব্যাংক নয়াপাড়া যশোর শাখা এই একাউন্ট সঞ্চয় হিসাব নম্বরে (২০৫০১৩৫০২০৪২৪৪০১১) গত ২৪-০৪-২০২৫ইং আরও ২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এবার পারুল আক্তার তার দেশের বাড়ি হবিগঞ্জ চুনারুঘাট থেকে জামাইকে সৌদি ফ্লাইট এর উদ্দেশ্যে ধানমন্ডি জিগাতলা বাসায় নিয়ে আসে। এভাবে কয়েকদিন চলে যায়। দালাল চক্র বিভিন্ন টালবাহানা করে একের পর এক ফ্লাইটের তারিখ পিছানো হয়। এক সময় দালাল চক্র যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এরপর পারুল আক্তারের জীবনে অন্ধকারের ছায়া নেমে আসে। চারিদিকে পাওনাদার, এবং অন্যদিকে সুদের টাকা পরিশোধ না করতে পেরে খুব মানবতের জীবনযাপন করছেন পারুল আক্তার। হঠাৎ কয়েকদিন পর দালালচক্র আরিফুল ইসলামের সাথে পারুল আক্তারের যোগাযোগ হয়। তখন পারুল আক্তার কে আশ্বাস দেন আমাদের একটু সমস্যা হয়েছিল, এখন ফ্লাইট হয়ে যাবে, কিন্তু আমাকে ২০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিন। তখন পারুল আক্তার নিরুপায় হয়ে দালাল চক্র আরিফুল ইসলামের সহধর্মিনী শারমিন আক্তারের মোবাইল বিকাশ (০১৯৩৫৬৪৭৭৮৩) নম্বরে গত ২২-০৫-২০২৫ইং তারিখে আবার ২০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে দালাল চক্র পারুল আক্তারের সাথে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। জানাযায়, দালাল চক্র আরিফুল ইসলাম ও তার সহধর্মানি শারমিন আক্তার এর বাড়ি যশোর নোয়াপাড়া, নড়াইল, কালিয়া
বাজার। এখন ভুক্তভোগী অসহায় পারুল আক্তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দালাল চক্রের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান। এই প্রতিনিধি দালালের সহধর্মনি শারমিন আক্তার এই মোবাইল নম্বরে (০১৯৩৫৬৪৭৭৮৩) একাধিকবার যোগাযোগ করলে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
মন্তব্য করুন