আব্দুর রাজ্জাক,জয়পুরহাট : জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে দলিল লেখক পদে লাইসেন্স গ্রহণের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দলিল লেখক সৈয়দ আলী মুর্তজা ওরফে রবিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করেছে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়। একই সঙ্গে তার সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, ক্ষেতলাল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক (সনদ নং–৯২) হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন রবিন চৌধুরী। অভিযোগ রয়েছে, তিনি জাল শিক্ষাগত সনদ ও অসত্য তথ্য উপস্থাপন করে দলিল লেখক হিসেবে লাইসেন্স গ্রহণ করেন। জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সম্প্রতি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট রবিন চৌধুরীর অপসারণ, লাইসেন্স বাতিল এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলন করেন।
অভিযোগকারী মিজান চৌধুরী জানান, রবিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, “সি.এস.পি তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আগেও একাধিক প্রশাসনিক তদন্ত হয়েছে। সর্বশেষ আমার করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে জাল সনদ ব্যবহারের মতো গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার ফলেই তাকে শোকজ করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এখনো তিনি বহাল তবিয়তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।”
শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়, রবিন চৌধুরীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার সাল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও সনদ ব্যবহারে গরমিল পাওয়া গেছে। এছাড়া নিয়োগের সময় মিথ্যা তথ্য প্রদান, সরকারি অফিসে অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গ, সরকারি কাজে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার, অফিসের নিয়মনীতি লঙ্ঘন এবং অনুমতি ছাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে।
জেলা রেজিস্ট্রারের আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রবিন চৌধুরী দলিল লেখকের কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না। পাশাপাশি দলিল লেখক বিধিমালা ২০১৪-এর বিধি ১২(খ) অনুযায়ী কেন তার সনদ সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না—সে বিষয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল বারী সাংবাদিকদের জানান, “রবিন চৌধুরীর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আপাতত তিনি কোনো কাজ করতে পারবেন না। যদি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাজ করার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ক্ষেতলাল উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার ছামিউল ইসলাম বলেন, “অব্যাহতির পর রবিন চৌধুরী আমার সামনে কোনো কাজ করতে আসেননি। তিনি কাজ করছেন—এমন কোনো অভিযোগও আমার কাছে আসেনি।
তবে উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি কামরুজামান দাবি করেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও রবিন চৌধুরী কার্যত বহাল তবিয়তে কাজ করছেন। বিষয়টি সাব-রেজিস্ট্রার ও জেলা রেজিস্ট্রার উভয়ই অবগত আছেন।
মন্তব্য করুন