নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা রেশনিংয়ের আওতায় স্বল্পমূল্যে খোলা বাজারে চাল ও আটা বিক্রিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ডিলার এবং সংশ্লিষ্ট তদারককারী কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সরকারি এই সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছেন দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষ।
অনিয়মের মূল চিত্র
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওএমএস (OMS) নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ট্রাক সেল বা দোকান সেলে একজন তদারককারী কর্মকর্তার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের দেখা মেলে না। এই অনুপস্থিতির সুযোগে ডিলাররা সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ও আটা গোপনে অন্যত্র বেশি দামে বিক্রি করে দিচ্ছে।
দীর্ঘ অপেক্ষা ও বঞ্চনা: ট্রাকগুলো সকাল ৯টার মধ্যে আসার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় সকাল ১১টার আগে পৌঁছায় না। ঘন্টার পর ঘন্টা রোদ-বৃষ্টিতে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত চাল বা আটা পাচ্ছেন না।
বস্তার মাপে কারচুপি: সরকারি ৩০ কেজির বস্তা পরিবর্তন করে খোলা প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বিক্রির মাধ্যমে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে ৩০ কেজির স্থলে ২৫ থেকে ২৬ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে।
অতিরিক্ত মূল্য আদায়: সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও গ্রাহকদের কাছ থেকে কেজিতে ৫-১০ টাকা বেশি আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
তদারকির অভাব ও যোগসাজশ
তদারককারী কর্মকর্তাদের (এআরও ডি-১ থেকে ডি-৯ এলাকা) অনুপস্থিতিই ডিলারদের এই অনিয়মের প্রধান সাহস জোগাচ্ছে। তদারককারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ছিল প্রতিদিনের বিক্রয়যোগ্য মালামালের পরিমাণ নিশ্চিত করা, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পালিত হচ্ছে না।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা রেশনিং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের দাবি, ডিলার ও কর্মকর্তাদের এই অশুভ আঁতাত বন্ধ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না হলে সরকারের এই মহৎ উদ্দেশ্য সফল হবে না।
মন্তব্য করুন