নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যাত্রাবাড়ী থানার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা আসামি গ্রেফতার যার মামলা নং- ০৪, তারিখ- ০১/০৪/২০২৬ ইং, ধারা- ৩০২/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০।ভিকটিম তাসলিমা (৩৪) তাহার ৩য় স্বামী মোঃ রশিদ আহমেদ বাপ্পী (৪০) এর সহিত যাত্রাবাড়ী থানাধীন ৭৩/ডি, দক্ষিণ সায়েদাবাদ, মিজানুর রহমানের বাড়ীর ৭ম তলার ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করিয়া আসিতেছিল। ভিকটিমের বর্তমান সংসারে একটি কন্যা ও একটি পুত্র সন্তান আছে। ভিকটিম তাহার বান্ধুবী ফারহানা শামস এর মাধ্যমে আসামী মোঃ আব্দুল্লাহ রাজুর সহিত পরিচয় হয়। একপর্যায় আসামী মোঃ আব্দুল্লাহ রাজুর সহিত আমার বোনের সু-সর্ম্পক গড়ে উঠে। সেই সুবাধে আসামী মোঃ আব্দুল্লাহ রাজু বিভিন্ন সময় বাদীর বোনের বাসায় যাতায়াত করিত। বাদীর বোনের সহিত সু-সর্ম্পক থাকায় আসামীর সহিত বাদীর বোনের বিভিন্ন সময় টাকা লেনদেন হইত। ইং ৩০/০৩/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ০৪.০০ ঘটিকার সময় আসামী মোঃ আব্দুল্লাহ রাজু যাত্রাবাড়ী থানাধীন ৭৩/ডি, দক্ষিণ সায়েদাবাদ বাদীর বোনের স্বামীর ভাড়াকৃত বাসায় যায়। বাদীর বোনের স্বামী, শ্বশুর নুর ইসলাম, শ্বাশুরী শাহিদা বেগম বাসায় অবস্থানরত ছিল। বাদীর বোনের স্বামী মোঃ রশিদ আহমেদ বাপ্পী জরুরী কাজে ইং ৩০/০৩/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ০৫.৪৫ ঘটিকার সময় বাসা হইতে বাহির হইয়া যায়। আসামী মোঃ আব্দুল্লাহ রাজু বাদীর বোনের সহিত জরুরী কথা আছে বলিয়া বাদীর বোনকে রুম হইতে বাহির করিয়া বাসার ছাদের অংশে নিয়া যায়। বাদীর বোনের শ্বাশুড়ী সাহিদা বেগম সন্ধ্যা অনুমান ০৬.৪০ ঘটিকার সময় ছাদের অংশে যাইয়া বাদীর বোনের গলার শ্বাসনালীর অংশে রক্তাক্ত কাটা জখম সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তাক্ত কাটা জখম প্রাপ্ত অবস্থায় ছাদের ফ্লোরে পড়ে থাকা অবস্থায় দেখিতে পায়। বাদীর বোনের সাথে থাকা মোঃ আব্দুল্লাহ রাজুকে তখন উক্ত স্থানে পাওয়া যায় নাই কিন্তু তাহার ব্যবহৃত মোবাইল আমার বোনের পাশেই পড়িয়া ছিল। তাৎক্ষনিক বাদীর বোনের শ্বশুরের মোবাইল হইতে বাদীর বোনের স্বামীকে কল করিয়া ঘটনার বিষয়ে জানাইলে বোনের স্বামী দ্রুত বাসায় যাইয়া বাদীর বোনকে জখম প্রাপ্ত অবস্থায় উদ্ধার করিয়া অজ্ঞাতনামা ব্যাটারী চালিত অটোতে করিয়া দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকায় নিয়া যায়। জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত ডাক্তার বাদীর বোনকে মৃত ঘোষনা করে। ইং ৩০/০৩/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ০৫.৪৫ ঘটিকা হইতে ৩০/০৩/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৬.৪০ ঘটিকার মধ্যে যেকোন সময় আসামী মোঃ আব্দুল্লাহ রাজু অজ্ঞাতনামা আসামীদের সহায়তায় যাত্রাবাড়ী থানাধীন ৭৩/ডি, দক্ষিণ সায়েদাবাদ, মিজানুর রহমানের বাড়ীর ৭ম তলা বাদীর বোনের স্বামীর ভাড়াকৃত বাসার ছাদের অংশে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে খুন করিয়াছে। যাত্রাবাড়ী থানাধীন ৭৩ডি দক্ষিন সায়দাবাদ মিজানুর রহমান এর বাড়ীর সপ্তম তলায় ভিকটিম এর বাড়ীর ভাড়া বাসা, ৩০ মার্চ ২০২৬, বিকাল অনুমান ০৫.৪৫ ঘটিকায়।সুরভী আক্তার দিয়া(৩৬), পিতা- জয়নাল আবেদীন, মাতা- রেনু বেগম, সাং- ১৮৯ সিদ্দিক বাজার, থানা- বংশাল, জেলা- ঢাকা, এনআইডি- ১৯৯০২৬৯৪০৩৪০০০১১০,মোবাইল-০১৭৮৮-৮১১৩০৩।এসআই (নিঃ) জনাব, রাসেল সরদার বিপি-৯১২০২২৬৭৮৬, যাত্রাবাড়ী থানা, ডিএমপি, ঢাকা। ১, মোঃ আব্দুল্লাহ রাজু(৪১), পিতা- হাজী আঃ রহিম, মাতা- বিবি আয়েশা, সাং- ৩৭/এ হরনাথ ঘোষ রোড, ডাকঘর- পোস্তা, থানা- লালবাগ, জেলা- ঢাকা।
ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া আসামীর মোবাইল ফোন ০১(এক)টি। গত দুই বছর আগে আসামী রাজুর সাথে ফেইসবুকে পরিচয় ও পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্ক হয়। উক্ত সম্পর্কের জের ধরে তারা একসাথে কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়। সম্পর্কের একপর্যায়ে ডিসিস্ট তাসলিমা(৩৮) তাহার অফিস ও ব্যবসায়ের জন্য পঞ্চাশ লক্ষ টাকা দাবি করে।সরল বিশ্বাসে আসামী রাজু ডিসিস্ট তাসলিমাকে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা দিয়ে দেয়।দেড় বছর পাড় হওয়ার পরেও তাসলিমা আসামী রাজুর উক্ত টাকার কোনো লভ্যাংশ কিংবা কোনো টাকা ফেরত না দেওয়ায় তাদের সম্পর্কের টানা পোড়েন সৃষ্টি হয়। রাজু তাসিলামার কাছে বারবার টাকা চাওয়ার পরেও সে তাকে কোনো টাকা প্রদান করেন নাই।আসামী রাজুকে তাসলিমা কোনো টাকা না দেয়ায় তাসলিমার প্রতি রাজুর একটা ক্ষোভ তৈরী হয়।তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩০/০৩/২০২৬ খ্রি. রাজুকে তাসলিমার টাকা দেয়ার কথা থাকলে সে তাসলিমার যাত্রাবাড়ী থানাধীন দক্ষিণ সায়েদাবাদ বাসায় যায়।রাজু তাসলিমার কাছে টাকা চাইলে সে আগামী ০৫/০৪/২০২৬ খ্রি. টাকা দিবে বলে জানায়।রাজু তাসলিমার কথায় আশ্বস্ত না হয়ে তাসলিমার প্রতি তার তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ক্ষোভের বর্শবর্তী হয়ে আসামি রাজুর সাথে তাসলিমার কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির পর্যায়ে আসামী রাজু ধারালো ছুরি দিয়ে তাসলিমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। তাসলিমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। পরে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পযালোচনা সহ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আসামীকে ঢাকা জেলার দক্ষিন কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। উক্ত আসামীগণ সূত্রোক্ত মামলার ঘটনার সাথে জড়িত আছে মর্মে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমান পাওয়া যাচ্ছে। ধৃত আসামী নিজের দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দী প্রদান করেছেন। মামালাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
মন্তব্য করুন